স্বর্ণের ক্যারেট, খাদ ও ভরির হিসাব: কেনার আগে যা জানা জরুরি

নিউজ ডেস্ক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হাজার বছর ধরে সম্পদ ও আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে স্বর্ণ মানুষের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বিয়ে, উৎসব কিংবা নিরাপদ বিনিয়োগ—সব ক্ষেত্রেই স্বর্ণের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে আধুনিক সময়ে স্বর্ণ কিনতে গিয়ে ক্যারেট, হলমার্ক, খাদ কিংবা ভরি–গ্রামের হিসাব নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।

স্বর্ণের বিশুদ্ধতা পরিমাপের আন্তর্জাতিক একক হলো ক্যারেট। বিশুদ্ধতার ভিত্তিতে স্বর্ণকে সাধারণত ২৪, ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে ভাগ করা হয়। ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ সবচেয়ে খাঁটি হলেও এটি অত্যন্ত নরম হওয়ায় দৈনন্দিন ব্যবহারের গহনা তৈরিতে সাধারণত ২২ ক্যারেট বা তার কম ক্যারেটের স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়।

অনেকে মনে করেন, কম ক্যারেটের স্বর্ণ মানেই ভেজাল। বাস্তবে বিষয়টি তা নয়। খাঁটি স্বর্ণ নরম হওয়ায় গহনা বানাতে এতে তামা, রুপা, দস্তা বা নিকেলের মতো ধাতু মেশানো হয়, যাকে বলা হয় ‘খাদ’। খাদ যত বেশি, স্বর্ণ তত শক্ত হলেও বিশুদ্ধতার মাত্রা কমে এবং ক্যারেটও নিচে নামে।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মতে, বাংলাদেশে গহনা তৈরিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ২২ ক্যারেট স্বর্ণ, যা প্রায় ৯১ দশমিক ৬৭ শতাংশ খাঁটি। চুড়ি, কানের দুল, নাকফুলসহ বেশিরভাগ অলংকারই এই ক্যারেটে তৈরি হয়। ২১ ক্যারেট স্বর্ণ আরও শক্ত ও টেকসই, যা আংটি, চেইন বা নিত্য ব্যবহারের গহনায় বেশি ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণে থাকে ৭৫ শতাংশ খাঁটি স্বর্ণ, যা হীরা বা মূল্যবান পাথর বসানোর জন্য সবচেয়ে উপযোগী।

খাঁটি স্বর্ণ চেনার সবচেয়ে সহজ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত উপায় হলো হলমার্ক। হলমার্ক হচ্ছে অলংকারের গায়ে খোদাই করা নির্দিষ্ট সংখ্যা, যা স্বর্ণের মান নির্দেশ করে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ২৪ ক্যারেটের জন্য ৯৯৯.৯, ২২ ক্যারেটের জন্য ৯১৬, ২১ ক্যারেটের জন্য ৮৭৫ এবং ১৮ ক্যারেটের জন্য ৭৫০ সংখ্যা ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশে হলমার্ক করা স্বর্ণ বিক্রি বাধ্যতামূলক হলেও এখনো অনেক দোকানে তা পুরোপুরি মানা হয় না। বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান দোলন জানান, গহনা কেনার সময় অবশ্যই ক্যারেট অনুযায়ী হলমার্ক সিল আছে কি না তা যাচাই করা জরুরি। তিনি বলেন, অনলাইন হলমার্কিং চালুর মাধ্যমে একটি কোড স্ক্যান করে গ্রাহক সহজেই গহনার সত্যতা জানতে পারবেন।

স্বর্ণের ওজন নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। বাংলাদেশে ভরি, আনা ও রতি শব্দ বেশি প্রচলিত হলেও আন্তর্জাতিকভাবে স্বর্ণের ওজন মাপা হয় গ্রাম ও ট্রয় আউন্সে। এক ভরি সমান ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম এবং ২ দশমিক ৪৩ ভরি সমান এক ট্রয় আউন্স। যদিও বাজারে দাম বলা হয় ভরিতে, বাস্তবে স্বর্ণের হিসাব গ্রাম অনুযায়ীই নির্ধারণ করা হয়।

গত কয়েক বছরে স্বর্ণের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে। পাঁচ বছরে প্রায় তিনগুণ দামে পৌঁছেছে এই ধাতু। দাম বাড়া–কমার এই সময়ে ক্যারেট, খাদ, হলমার্ক এবং ওজনের একক সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকলে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত