প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট—এই দুটোই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাতে জানানো হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি (কমপ্রিহেনসিভ পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে চলমান আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক, চলমান পিসিএ আলোচনা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে নতুন সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অধ্যাপক ইউনূস যে ব্যাপক ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ নিয়েছেন, তার জন্য তিনি তাকে অভিনন্দন জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এসব সংস্কারকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইইউ কর্মকর্তা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে উচ্চমাত্রার সংস্কার উদ্যোগ দেখা গেছে, তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রশংসা করেছে। পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ১৭ মাস ধরে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।
পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইইউ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের বড় নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে এসে রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, স্বৈরশাসনের কারণে গত ১৬ বছর মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পাওলা পাম্পালোনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা উভয় পক্ষের জন্য নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে সমর্থন দিয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। তার মতে, কোনো দল ‘না’ ভোটের পক্ষে যাবে না।
সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।