বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অভিযোগ করেছে, একটি রাজনৈতিক দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের প্রতি অশালীন আচরণ, শারীরিক আক্রমণ, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং সাইবার হামলার মাধ্যমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চাইছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি দলটির।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার-মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, শেরপুরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহও পার হয়নি, এখনো সেই ঘটনার রক্তের দাগ শুকায়নি। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হলেও মামলাটি তদন্তাধীন অবস্থায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন পাওয়ায় জামায়াত গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরে প্রিজাইডিং অফিসারের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে জামায়াতের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ওই সময় বিএনপির সংশ্লিষ্ট এলাকার সংসদ সদস্য প্রার্থীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে শ্রীবর্দী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং আরও অনেকে আহত হন। হত্যাকাণ্ডের পর মামলা দায়ের করা হলেও এখনো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হয়ে বরং জামিন পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, হত্যার পরদিন জামায়াত আমির শহীদ রেজাউল করিমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান, কবর জিয়ারত করেন এবং এলাকাবাসীর সঙ্গে দোয়া করেন। অথচ এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযুক্তরা জামিন পাওয়ায় আইনের শাসন প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলে মনে করছে জামায়াত। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে নারীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, গত ১৭ দিনে দেশের ৩৩ জেলায় জামায়াতের নারী কর্মীদের হুমকি, অশালীন মন্তব্য এবং শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। কোনো কোনো স্থানে তাদের মারধর করে আহত করা হয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এক শীর্ষ নেতার বোরখা ও হিজাব নিয়ে মন্তব্য নারীদের মধ্যে ভীতিকর বার্তা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের প্রতি নারীদের ব্যাপক সমর্থন ও জনসভায় তাদের উপস্থিতি দেখে একটি পক্ষ অস্বস্তিতে ভুগছে। সেই কারণেই নারীদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জামায়াত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট একটি সুরক্ষিত এলাকা থেকে হ্যাক হওয়ার ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতের এই নেতা বলেন, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং হত্যাকাণ্ডগুলোর দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের মধ্যে এই বার্তা যাবে যে, খুন করেও পার পাওয়া যায়।
শেষে তিনি সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাইকে দায়িত্বশীল বক্তব্য ও আচরণ করতে হবে, যাতে কোনো উসকানিতে জাতি বিভ্রান্ত না হয়। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাংবাদিক ওলিউল্লাহ নোমান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী প্রচার সম্পাদক আব্দুস সাত্তার সুমন।