বিশ্বজুড়ে যখন ৬জি প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে এক চমকপ্রদ তথ্য–মিল। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যাচ্ছে, প্রতিটি প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক লঞ্চের বছরেই কোনো না কোনো ভাইরাস বা মহামারী বিশ্বজুড়ে আঘাত হেনেছে।
অদ্ভুত না ভয়ংকর মিল?
প্রযুক্তির ইতিহাস বলছে—১৯৭৯ সালে ১জি চালুর বছরেই রাশিয়ান ফ্লু নামে একটি ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে। এরপর ১৯৯১ সালে ২জি চালু হলে সেই বছর ইনফ্লুয়েঞ্জা–এ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ১৯৯৮ সালে ৩জি লঞ্চের সময়ও বিশ্বজুড়ে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল।
২০০৯ সালে ৪জি চালু হয়, আর ঠিক সেই বছরেই শুরু হয় সোয়াইন ফ্লু–এর বৈশ্বিক সংক্রমণ। সবচেয়ে সাম্প্রতিক উদাহরণ—২০১৯ সালে ৫জি লঞ্চের সময়েই চীনের উহান থেকে শুরু হয় কোভিড–১৯ মহামারী।
এই ধারাবাহিক মিল দেখে অনেকেই এখন প্রশ্ন তুলছেন—এগুলো কি নিছক কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে কোনো গভীর সম্পর্ক?
৬জি লঞ্চ নিয়ে আতঙ্ক
বিশ্ব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যেই ৬জি নেটওয়ার্ক বাণিজ্যিকভাবে চালু হবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মনে নতুন আতঙ্ক জন্ম নিয়েছে—ইতিহাস কি আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করবে?
একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন,
“১জি থেকে ৫জি পর্যন্ত প্রতিবারই নতুন মহামারী এসেছে। তাহলে কি ৬জি চালুর পর আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আরও ভয়াবহ কিছু?”
বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
তবে স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই দাবিকে কাকতালীয় বলেই মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে ভাইরাস সংক্রমণের কোনো বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানায়, ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব সামাজিক, পরিবেশগত ও জৈবিক কারণে ঘটে—টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।
তবু সাধারণ মানুষ এই তথ্য–মিলকে উপেক্ষা করতে পারছে না। অনেকে বলছেন, প্রযুক্তি যতই অগ্রসর হোক, মানবজাতির জন্য সেটি যেন নতুন এক পরীক্ষার ময়দান হয়ে উঠছে।
অগ্রগতির সঙ্গে আশঙ্কা
বিশ্ব যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন ও ৬জি যুগে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই অদ্ভুত কাকতালীয় ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক, মানব নিরাপত্তা ও ভারসাম্য রক্ষা করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।