ভয়াবহ তথ্য: প্রতি ৫ জনের ৪ জনই মেরুদণ্ডের সমস্যায় আক্রান্ত, কর্মহীন হচ্ছেন ৬০% রোগী

নিউজ ডেস্ক
 ছবি:
ছবি:

ভূমিকা: মেরুদণ্ডের রোগ বিশ্বজুড়ে এক নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বিশ্বের প্রতি পাঁচজন মানুষের মধ্যে চারজনই জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে মেরুদণ্ডের সমস্যায় ভোগেন। আরও আশঙ্কার বিষয় হলো, গুরুতর আঘাত পাওয়া রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশই কর্মহীন হয়ে পড়েন, যা দেশের জন্য একটি বিরাট বোঝা।

বিস্তারিত: বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ব স্পাইন দিবস উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা।

নীরব মহামারি ও তার আর্থিক ক্ষতি: অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢামেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। তিনি জানান, বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ মেরুদণ্ডের নানা সমস্যায় ভুগছেন। শুধুমাত্র কোমর ব্যথায় ২০২০ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬১ কোটি ৯০ লাখ, যা ২০৫০ সাল নাগাদ ৮৪ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছাতে পারে। এর কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে নষ্ট হচ্ছে প্রায় ৮ কোটি ৩০ লাখ কর্মঘণ্টা এবং চিকিৎসা ও উৎপাদনহীনতার ক্ষতি মিলিয়ে এর আর্থিক পরিমাণ প্রায় ১৮৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ঝুঁকিতে কারা? ডা. সালাহ উদ্দিন বলেন, স্থূলতা, ধূমপান, দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করা এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের মতো বিষয়গুলো মেরুদণ্ডের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনাসহ নানা কারণে স্পাইনাল কর্ড ইনজুরির সংখ্যা বাড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি: বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা, বিশেষ করে অটোরিকশা দুর্ঘটনার কারণে মেরুদণ্ডে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এসব রোগীদের বড় একটি অংশ হাত-পা প্যারালাইসিসসহ নানা জটিলতায় ভোগেন এবং প্রায় ৬০ ভাগই স্থায়ীভাবে বেকার হয়ে যান।

চিকিৎসা ও চ্যালেঞ্জ: ঢামেকের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানান, গত বছর তাদের বিভাগে ২,৩১৯ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন এবং ১,২৪২ জনের সফল অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তবে তিনি বলেন, "পর্যাপ্ত অপারেশন থিয়েটার ও লোকবল পেলে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা দ্বিগুণ করা সম্ভব।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে জনসচেতনতা অনেক কম। বেশিরভাগ মানুষ কোমর ব্যথাকে অবহেলা করেন, ফলে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। অথচ প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নিলে অনেক রোগই প্রতিরোধ করা সম্ভব।"

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে ঢামেক ক্যাম্পাসে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত