বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কিছু মানুষ থাকবেই যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে আমি মনে করি না এবারের নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে। মানুষ এবার জেগে গেছে, ভোট তারা দেবেই। ইনশাআল্লাহ, এবার আমাদের ভোট দেওয়া কেউ ঠেকাতে পারবে না।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়ায় এক নির্বাচনি পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। তরুণ ভোটারদের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৮ বছর বয়সীসহ অনেক তরুণ দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। তারা এবার ভোট দিতে মুখিয়ে আছে।
পথসভায় ভোটারদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে ভোটকেন্দ্রে পাহারা দিতে হবে যেন কেউ কোনো ধরনের গোলমাল করতে না পারে। হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সবাই মিলে নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় পথসভায় এক হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ আল মামুনের বোন আনিসা আক্তার সঞ্চিতা তার জমানো একটি মাটির ব্যাংক ও কয়েকটি মুরগির ডিম মির্জা ফখরুলের হাতে তুলে দেন। উপহারটি গ্রহণ করে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বিএনপি মহাসচিব, তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, তারা আমাকে তাদের সঞ্চিত মাটির ব্যাংকের টাকা ও ডিম উপহার দিয়েছে। আল্লাহ, তুমি ওদের কবুল করে নাও।
দলীয় প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এমন একটি দল যারা যা বলে তা বাস্তবে বাস্তবায়ন করে। বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি মায়েদের ও কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষি কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা নানা সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন—যেসব মায়েরা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি সরকার সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে। মানুষ ঋণমুক্ত হলেই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।
এদিন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ও নারগুন ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও হাট-বাজারে ম্যারাথন গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল। এ সময় জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আল মামুন, ইউনিয়ন বিএনপির ওয়ার্ড নেতা বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।