বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের মুখপাত্র মাহদী আমীন। তিনি বলেন, এই দাবি কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের ৯০ নম্বর রোডে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমীন। তিনি দাবি করেন, ডা. শফিকুর রহমানের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের উদ্দেশ্যে যে ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে আলোচনা চলছে, তা যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে সেটি সমাজকে মধ্যযুগীয় মানসিকতার দিকে ঠেলে দেওয়ার শামিল।
মাহদী আমীন বলেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে দেওয়া একটি পোস্ট ঘিরে দেশজুড়ে যে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি একটি রাজনৈতিক দলের বিশ্বাস ও অবস্থানকে প্রতিফলিত করে, তবে সেটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি আরও বলেন, এর আগেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারসহ বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নেতাদের নারীদের ক্ষমতা ও অধিকার নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেখা গেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে তারা অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি সেটাই সত্য হয়, তাহলে কেন তাৎক্ষণিকভাবে জাতির সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়নি এবং কেন প্রায় ১২ ঘণ্টা পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হলো—সেই প্রশ্নের জবাব এখনো মেলেনি। একই সঙ্গে অল্প সময়ের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের দাবিও কতটা বিশ্বাসযোগ্য, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মুখপাত্র বলেন, বিএনপি সবসময় নারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সম্মান ও সমঅধিকারের পক্ষে। নারীদের বিরুদ্ধে অবমাননাকর ভাষা ও মানসিকতা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জামায়াত আমিরের পোস্ট যদি সত্য হয়ে থাকে, তবে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান মাহদী আমীন।
তিনি আরও বলেন, অতীতেও জামায়াতের পক্ষ থেকে নারীদের নেতৃত্বে আসা নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। অথচ নির্বাচনের সময় নারীদের দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করানো হচ্ছে, যা দ্বিচারিতার প্রমাণ। একই সঙ্গে জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নারী নেত্রী অপমানের শিকার হয়ে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মাহদী আমীনের দাবি, নির্বাচনী মাঠে বিএনপির নারী প্রার্থী ও নারী কর্মীরাও অনলাইন ও অফলাইনে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং নারীবিদ্বেষী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।