স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত এবং পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-০১ (শৈলকুপা) আসনের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আজ রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ সময় প্রয়াত দুই নেতার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিতর্ক, মামলা ও সাজা দেওয়া হলেও সাধারণ মানুষের বিশ্বাসে কোনো ফাটল ধরেনি। জনগণ কখনোই বিশ্বাস করেনি যে তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ যাকে সম্মানিত করেন, দুনিয়ার কোনো শক্তি তার সম্মান কেড়ে নিতে পারে না। ক্ষমতার জোরে তাঁকে দমন করার চেষ্টা করা হলেও দেশবাসীর ভালোবাসা ছিল অটুট। তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া সাজা ছিল পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার একটি কৌশল ছাড়া কিছুই নয়।
সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেল দাবি করেন, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর বিচারই কার্যকর হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া জীবদ্দশাতেই মানসিক প্রশান্তি নিয়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। দেশপ্রেম, গণতন্ত্র রক্ষা এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার যে দৃঢ়তা তিনি রেখে গেছেন, তা তাঁকে মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে তুলেছে।
তিনি বেগম জিয়ার জানাজা ও বিদায়ের সময় মানুষের উপচে পড়া ভিড়ের কথাও স্মরণ করেন। আসাদুজ্জামানের ভাষ্য, বিদায়ের মুহূর্তে মানুষের যে ঢল ও আবেগ দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর অবস্থান কতটা গভীর ছিল। সার্বভৌমত্ব ও ন্যায়বিচারের প্রতি তাঁর অবিচল অবস্থানই তাঁকে অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বার্ন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাসির উদ্দিন, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন বাবর ফিরোজ, বিএনপির সাবেক সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এম এ মান্নান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহম্মেদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এস এম আল মাহমুদ দীপু, দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সোহেল খান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোশাররফ হোসেন ধ্রুবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।