কুমিল্লায় বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশের মঞ্চে বহিষ্কৃত সাবেক কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গত দুই দিন ধরে এসব ছবি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—সাক্কুর বহিষ্কারাদেশ কি প্রত্যাহার হতে যাচ্ছে, নাকি তিনি কীভাবে দলের শীর্ষ নেতার সমাবেশের মঞ্চে জায়গা পেলেন?
এ বিষয়ে নিজেই ব্যাখ্যা দিয়েছেন মনিরুল হক সাক্কু। তিনি জানান, দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তিনি সমাবেশের মঞ্চে উঠেছেন। তার এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে কুমিল্লার রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হওয়ায় সাক্কুকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার না হলেও রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী এলাকায় বিএনপির আয়োজিত সমাবেশে তিনি মঞ্চে ওঠেন। এমনকি রাতে তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তাকে মঞ্চে দেখা যায়।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৫ জুনের সিটি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় সাক্কুকে আজীবনের জন্য বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার পর থেকে তার স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন ওঠে। তিনি মনোনয়নপত্র কিনলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন জমা দেননি। বর্তমানে তিনি ওই প্রার্থীর পক্ষেই নির্বাচনী কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। দলীয় সূত্রের দাবি, সাক্কুর দলে ফেরার বিষয়ে যে কোনো সময় আনুষ্ঠানিক চিঠি আসতে পারে।
এদিকে, দলে ফেরার গুঞ্জনের মধ্যেই গত ২৬ অক্টোবর ঢাকার গুলশানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্কুর বৈঠক হয়। এরপর কুমিল্লায় ফিরে তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন। দলীয় একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানের সমাবেশে সাক্কুর অংশগ্রহণের বিষয়ে এক সপ্তাহ আগেই দলের পক্ষ থেকে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই তিনি বিএনপি ও শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বিশ্বাসী। দল তাকে বহিষ্কার করলেও তিনি কখনো দল ছাড়েননি। দলের আদর্শ থেকেই তিনি তারেক রহমানের সমাবেশে উপস্থিত হয়েছেন। বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি দলের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, সাক্কু দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এবারের নির্বাচনে ধানের শীষের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হননি। এটিকে তিনি দলের জন্য বড় ত্যাগ হিসেবে দেখছেন এবং আশা প্রকাশ করেন, সময়মতো সাক্কুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠি আসবে।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নাগরিক কমিটির ব্যানারে নির্বাচন করে সাক্কু প্রথমবার কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। পরে ২০১৭ সালে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার মেয়র নির্বাচিত হলেও ২০২২ সালের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তিনি বহিষ্কৃত হন। এরপর ২০২৪ সালের উপনির্বাচনেও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিলেও বিজয়ী হতে পারেননি।