তারেক রহমান ও জাইমাকে ঘিরে অজানা অভিজ্ঞতা জানালেন শহিদুল আলম

নিউজ ডেস্ক
 ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ফ্যাসিস্ট শাসনামলের এক অজানা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন আলোকচিত্রী, অ্যাক্টিভিস্ট এবং দৃক পিকচার লাইব্রেরি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট ও আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা’-এর প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলম।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই অভিজ্ঞতার কথা জানান। পোস্টে শহিদুল আলম লিখেছেন, নির্মম রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে একসময় তারা গোপনে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তারেক রহমান নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘদিন নির্বাসনে ছিলেন—এই বাস্তবতা তার কাছে নতুন নয়, কারণ আল জাজিরায় কথা বলার মূল্য হিসেবে তিনিও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।

শহিদুল আলম জানান, ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ লন্ডনে অ্যান্ড্রু ফাইনস্টাইনের সঙ্গে ‘আনস্ক্রিপ্টেড’ অনুষ্ঠানের দুটি পর্বের শুটিং শেষে, ঢাকা ফেরার ফ্লাইটের কয়েক ঘণ্টা আগে শহরের কেন্দ্র থেকে দূরের একটি হোটেলে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন ভাগ্নি মাওলি। সেখানে মাওলি ও জাইমা রহমান দ্রুতই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এবং গল্পে মেতে ওঠেন।

তিনি লেখেন, তখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল অত্যন্ত কঠিন। শেখ হাসিনার শাসন ছিল নিরঙ্কুশ এবং তিনি তার তৃতীয় নির্বাচন ‘চুরি’ করেছিলেন বলে মন্তব্য করেন শহিদুল আলম। সেই প্রেক্ষাপটে তিনি আবারও ওই শাসনের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তুলেছিলেন, জেনেও যে দেশে ফিরে তাকে ঝুঁকির মুখে পড়তে হতে পারে।

পোস্টে শহিদুল আলম আরও উল্লেখ করেন, পরবর্তীতে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান, নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয় এবং তারেক রহমান ও জাইমা রহমান দেশে ফিরে আসেন। এরপর আবার আয়োজন করা হয় আন্তর্জাতিক আলোকচিত্র উৎসব ‘ছবিমেলা’, যা দেখতে জাইমা রহমান উপস্থিত হন।

এরপর লন্ডনে আবারও তারেক রহমানের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতের কথাও তুলে ধরেন শহিদুল আলম। তিনি জানান, সে সময় সৃজনশীল অর্থনীতি ও শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়—যে বিষয়গুলো তার হৃদয়ের খুব কাছের। সংস্কৃতি যখন সংকুচিত এবং নারীর অধিকার চরম চাপে, তখন শিল্পকলায় জাইমা রহমানের গভীর আগ্রহ তাকে আশাবাদী করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

দৃক গ্যালারি পরিদর্শনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শহিদুল আলম লেখেন, জাইমা পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি গ্যালারি ও ছাদের শিক্ষার্থীদের স্টল ঘুরে দেখার কথা থাকলেও, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েন যে সময়ের কথা টেরই পাননি। বেজমেন্টে অপেক্ষায় থাকা ডোসেন্টরা হতাশ হলেও, তিনি আশা প্রকাশ করেন—জাইমা আবার ফিরবেন।

পোস্টের শেষাংশে শহিদুল আলম বলেন, এই বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছে তরুণরা, শিল্পীরা এবং সর্বোপরি নারীরা। তাদের আর কোণঠাসা হতে দেওয়া যাবে না। বাংলাদেশের প্রকৃত রূপান্তরের জন্য জাইমার প্রজন্ম—জেন জি—এর নেতৃত্ব অপরিহার্য।

উল্লেখ্য, স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর তারেক রহমানের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজনে জাইমা রহমানকে দেখা গেলেও সম্প্রতি তিনি একাই দৃক গ্যালারি পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেই পরিদর্শনের কিছু ছবি শেয়ার করেন জাইমা রহমান।

পোস্টে তিনি দৃক গ্যালারির শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাহনুমা আহমেদ ও শহিদুল আলমকে ধন্যবাদ জানান এবং দেশের তরুণ শিল্পীদের প্রতিভা ও প্রাণচাঞ্চল্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি কেনিয়ার বিশ্বখ্যাত লেখক নগুগি ওয়া থিয়োঙ্গোর উক্তি শেয়ার করেন—
‘শিল্পবিহীন সংস্কৃতি হলো একটি স্মৃতিহীন সংস্কৃতি।’

এলাকার খবর

সম্পর্কিত