পিআর পদ্ধতিতে পুনরায় নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন রুটিনওয়ার্ক অনুযায়ী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারে, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে নির্বাচন পদ্ধতি এবং সংস্কার বিষয়ে যেহেতু এখনও চূড়ান্ত পর্যায়ের সিদ্ধান্ত হয়নি। এটি বিবেচনা করে এই নির্বাচন পদ্ধতির সমাধান করে তারপর রোডম্যাপ দিতে পারলে ভালো হতো। আগের পুরনো পদ্ধতিতে যেখানে দিনের ভোট রাতে হয়, ভোট ডাকাতি হয়, ব্যালট বাক্স হেলিকপ্টারে ছিনতাই হয়; সেভাবে ৫৪ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নির্বাচন হবে না। এতে নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে দেশ আবার এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হবে। সংঘাত এড়াতে পিআর পদ্ধতিকে সামনে রেখেই আবার নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে পিআর পদ্ধতি, জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি প্রদান এবং এর আলোকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবিতে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জসিম উদ্দিন সরকার প্রমুখ।
ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, নির্বাচন কমিশন অবশ্যই রোডম্যাপ দিতে পারে তবে তাদেরকে দুইটি বিষয়ে পরিষ্কার থাকতে হবে। এক হচ্ছে নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে। পুরনো পদ্ধতিতে না নতুন পদ্ধতিতে। নতুন পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে কেন্দ্র দখল করে অস্ত্রবাজি হবে না, বেশি টাকা খরচ হবে না, জোরজবরদস্ত ভোটও নিয়ে আসতে হবে না। সারাদেশের মানুষ কত শতাংশ মানুষ একটি দলকে চায় এটির ওপর সংসদের আসন নির্ধারিত হবে। আর এই সহজ পিআর পদ্ধতি বোঝে না তাদের রাষ্ট্র চালানোর মতো জ্ঞান নেই। এ সময় জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচন নিয়ে যখন একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে নির্বাচন কমিশন এই বিষয়গুলোর সমাধান করবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
সংস্কার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনুসের পুরনো বক্তব্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্কার ও পিআর পদ্ধতি নিয়ে আপনাকে সিদ্ধান্ত দিতে হবে। সংস্কার, বিচার আর নির্বাচন এই তিনটি আপনার ইস্যু হলেও সংস্কার ছাড়াই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনের সময় নিয়ে আমাদের আপত্তি নেই কিন্তু সংস্কার আর বিচার শেষ করেই তো নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে হতো। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হবে না। বিচার নিশ্চিত না করে নির্বাচন দিলে মানুষ মানবে না। জাতিকে এই অনিশ্চয়তার থেকে ঠেলে না দিয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে অনতিবিলম্বে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে সংলাপ আয়োজনের আহ্বান জানান। সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে যেতে প্রতিবন্ধকতা দূর না করলে সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পৌঁছাতে দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। এ সময় তিনি পিআর আর সংস্কারের জন্য সরকারকে গণভোট আয়োজনের আহ্বান জানান।
সংলাপ আহ্বানের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, সংলাপ হবে সার্বিকভাবে দেশের রাজনীতি, নির্বাচন, নির্বাচন পদ্ধতি, সংস্কার বিষয়ে তো সবাইকে একটা জায়গায় আসার জন্য। যদি রাজনৈতিক দলগুলো এক জায়গায় না আসে তবে কেউ নির্বাচন করবে, কেউ করবে না, কেউ বাঁধা দিবে। তবে দেশে তো আবার বিশৃঙ্খলা হবে। এই জন্য সমস্ত অমীমাংসিত বিষয়গুলো অনতিবিলম্বে সংলাপের মাধ্যমে একটি সমঝোতায় এসে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জরুরি সেটি সরকারও করবে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও আমরা আন্তঃদলীয় বৈঠক করে এটির সমাধান খুঁজবে। এটি যদি না হয় তাহলে তো আমরা আবার পুরনো জায়গায় পৌছায় যাবো। এটি দেশের জন্য, রাষ্ট্রের জন্য, জনগণের জন্য ভালো হবে না।
জামায়াতের এই মুখপাত্র বলেন, আমরা পুরাতনকে বিতাড়িত করেছি। জুলাই আন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী নতুন ইস্যু আসবে সেটাই স্বাভাবিক। দেশে সংস্কারের ব্যাপারে নানা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সংস্কারকে আইনি ভিত্তি দিয়ে সেই অনুযায়ী নির্বাচন হতে হবে। তবে যেখানেই সবচেয়ে বেশি সংস্কার প্রয়োজন সেখানেই একটি দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। সংস্কারের আইনি ভিত্তি দিতে তালবাহানা শুরু করেছে। কিন্তু আইনি ভিত্তি ছাড়া এটিকে সংস্কার বলা যায় না। যদি তাদের কথা কাজে মিল থাকে তবে সংস্কারকে আইনি ভিত্তি দিতে কোনো সমস্যা নেই। আমরা যেভাবে অন্তর্বর্তী সরকারকে মেনে নিয়েছি, সেভাবে সংস্কারকে আইনি ভিত্তি দিয়ে এর মাধ্যমেই নির্বাচন করতে হবে।