আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় অন্তত ১২ জন 'হেভিওয়েট' নেতা এবং আরও কয়েকজন আলোচিত সিনিয়র নেতার নাম বাদ পড়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত সোমবার (৩ নভেম্বর) গুলশানে দলের ২৩২/২৩৭ আসনের জন্য এই তালিকা ঘোষণা করেন। তালিকা প্রকাশের পর দলের অভ্যন্তরে আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
বাদ পড়া উল্লেখযোগ্য নেতারা: সিনিয়রিটি সত্ত্বেও বঞ্চিত
প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ পড়া নেতাদের মধ্যে দলের নীতিনির্ধারক ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
• মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বরিশাল-২ আসনে আলোচিত ছিলেন।
• আসলাম চৌধুরী: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক এমপি। তাঁর সম্ভাব্য আসন ছিল চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড)।
• শামসুজ্জামান দুদু: দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি। চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে তাঁর বদলে মো. শরীফুজ্জামানকে প্রার্থী করা হয়েছে।
• আব্দুস সালাম: চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক।
• রুহুল কবির রিজভী: দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।
• হাবিবুন নবী খান সোহেল: দলের যুগ্ম মহাসচিব।
• রুমিন ফারহানা: আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের জন্য পরিচিত ছিলেন।
• সুলতান সালাউদ্দিন টুকু: দলের প্রচার সম্পাদক।
• ড. আসাদুজ্জামান রিপন: দলের ভাইস চেয়ারম্যান।
এছাড়াও, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমান, এবং ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী-এর নামও প্রাথমিক তালিকায় নেই। বাদ পড়েছেন স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন-সহ আরও বেশ কয়েকজন নেতা।
বাদ পড়ার কারণ: এক পরিবারে একাধিক নয়
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মনোনয়ন বঞ্চনার একটি প্রধান কারণ হলো বিএনপির পূর্বের সিদ্ধান্ত। সূত্রমতে, দলটি আগে থেকেই এক পরিবার থেকে একাধিক প্রার্থী না রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। এই নীতি কিছু সিনিয়র নেতার ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে, যাদের পরিবারের অন্য কোনো সদস্যকে বিকল্প হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
যেমন, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে শামসুজ্জামান দুদুর বদলে মো. শরীফুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনে আসলাম চৌধুরীর বদলে কাজী সালাউদ্দিন-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
এই প্রাথমিক তালিকা ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাদের কৌশলগত পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। চূড়ান্ত তালিকায় কোনো পরিবর্তন আসে কিনা, এখন সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।