বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের জন্য যেন কেউ ধর্মকে বিক্রি না করে এবং ভোটের বিনিময়ে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে। তিনি বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া আলেম সমাজের একটি বড় ঈমানি দায়িত্ব। শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাসিয়খালী ইউনিয়নে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, টুপি-দাড়ি ধারণ করে ইসলামের নামে কথা বললে সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয়। অন্য ধর্মের বা ইসলামের বিরোধীরা কথা বললে মানুষ তা বুঝতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে ভুল ব্যাখ্যা দিলে বিভ্রান্তি আরও গভীর হয়। একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, বাস্তব কোনো পরিকল্পনা ছাড়া শুধু ইসলামের কথা বলে আলেম সমাজের কল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিংবা সামাজিক মর্যাদার আশ্বাস দেওয়া মূলত ধর্মকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা। একটি দলের নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ যুক্ত থাকলেই সেটি পুরো ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন ভুল ধারণা তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, বিশেষ করে নারী সমাজের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যদি নির্দিষ্ট কোনো মার্কায় ভোট দিলেই জান্নাত নিশ্চিত হতো, তাহলে মাদ্রাসায় পড়াশোনা বা দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণের কোনো প্রয়োজনই থাকত না। আল্লাহ ও রাসূলের নামে ভোট চাইতে গিয়ে জান্নাতের নিশ্চয়তার কথা বলা নাউজুবিল্লাহ—এটি অত্যন্ত ভয়াবহ জুলুম বলেও তিনি কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি সবাইকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় মুফতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আশরাফুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম আব্দুল মান্নান, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক মোবারক আলী, ফাসিয়াখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কুতুবউদ্দিনসহ স্থানীয় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবরা।
এর আগে সালাহউদ্দিন আহমদ চকরিয়ায় জুলাই যোদ্ধা শহীদ আহছান হাবিবের কবর জিয়ারত করেন। পরে তিনি ফাসিয়াখালীর ছড়ারকুল মাদ্রাসা রহমানিয়া হেফজখানা ও এতিমখানার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। একই দিনে তিনি মাতামুহুরি নদীর ওপর হাজিয়ান আলী পাড়া থেকে চকরিয়া পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর বেড়িবাঁধের সঙ্গে সংযোগকারী কাঠের সেতুর উদ্বোধন করেন।
স্থানীয়রা জানান, এই সেতু স্থাপনের ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত সবজি ও শস্য সহজে বাজারে নিতে পারবেন এবং ন্যায্য দাম নিশ্চিত হবে। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হওয়ায় এটি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এদিকে একই দিনে সকালে পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের জনসংখ্যার তুলনায় স্কুলের সংখ্যা আরও বাড়ানো জরুরি। তবে স্কুল প্রতিষ্ঠার আগে অবশ্যই জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে। তিনি বলেন, বড় ভবনই ভালো স্কুলের পরিচয় নয়; মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষক।