কথায় আছে — ‘যার বিয়ে, তার খবর নাই; পাড়া-পড়শির ঘুম নাই।’
আর এই প্রবাদটাই যেন হুবহু মিলে যাচ্ছে জামাতে ইসলামিকে ঘিরে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক নাটকে।
জামাতে ইসলামি নিজেরা ২৯৬টি আসনে মনোনয়ন দিয়ে ফেলেছে।
মানে, ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুত — অন্তত বাইরের সাজসজ্জা তাই বলছে।
কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো —
নিজেরা প্রার্থী দিলেও, চিন্তা তাদের অন্য দলের মনোনয়ন নিয়ে!
বিশেষ করে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে তাদের চিন্তা যেন ঘুম হারাম করে ফেলেছে!
এমনভাবে তারা ‘পিআর পদ্ধতি’র জন্য মাঠ গরম করছে,
যেন দেশের সব সমস্যার একমাত্র সমাধান ওটাই।
যেন — ‘যত দোষ অন্যের, আমি তো পবিত্র ফুল!’
পিআর পদ্ধতি – সত্যিই কি সমাধান?
জামাতসহ কিছু দল বলছে —
সংখ্যানুপাতিক ভোটব্যবস্থা চালু করলেই
মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — এত মাথাব্যথা কেন মনোনয়ন নিয়ে?
এটা কি সেই পুরনো কথার মতো —
“চোরের মনে পুলিশ পুলিশ?”
নিজেরাই কি মনোনয়ন বাণিজ্যে লিপ্ত?
নাকি “ঘরের দোষ ঢাকতে বাইরের ছায়া দেখাচ্ছেন?”
পিআর চালু হলে কী হবে?
যোগ্য লোক নয় — দলীয় অনুগতরা তালিকায় বসে বসেই এমপি হয়ে যাবে।
“মেধা নয়, বাধ্যতা হবে যোগ্যতার মাপকাঠি!”
এরা কি জানবে এলাকার স্কুলে পানি নেই?
এরা কি জানবে রাস্তা ভাঙা? হাসপাতালের ওষুধ শেষ?
“যে গাভী দুধ দেয় না, সে তো কেবল খোরাক খায়!”
পিআরের মাধ্যমে এমন মানুষ সংসদে ঢুকবে —
যারা জানে কেবল দলীয় আদেশ মানা, জনগণের কষ্ট নয়।
জনগণের এমপি নয়, দলের দালাল?
সংসদে কি আমরা চাই এমন এমপি —
যিনি এলাকার মানুষকে চেনেন না?
জমি দেখেননি, স্কুলের ছেলেদের হাসি শোনেননি?
তবে কাকে ভোট দিচ্ছেন আপনি?
“ভোট আপনি দেবেন, ক্ষমতা যাবে তালিকার কারখানায়!”
এমপি হবে এমন একজন,
যে হয়তো নির্বাচনের সময় এলাকায় পা-ই রাখেনি।
জামাতের পিআর দাবির নেপথ্যে
প্রশ্ন উঠছে —
জামাতে ইসলামির এত তাগিদ পিআর পদ্ধতি নিয়ে কেন?
কারণ একটাই —
“ভোটে হারা যাবে, তালিকায় জেতা যাবে!”
জামাত জানে, সরাসরি জনগণের রায় পেলে তারা পারবে না।
তাই তালিকাভিত্তিক পথ বেছে নিচ্ছে —
যেখানে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পর্ক নয়,
শুধু গোপন আঁতাত আর মঞ্চের পিছনের দড়ি টানাটানি।
“মুখে গণতন্ত্র, মনে স্বৈরতন্ত্র” — এটাই কি জামাতের কৌশল?
অতীতের আয়নাতে আজকের বাস্তবতা
আমরা ভুলে যাইনি —
“যে মা সন্তান চায়নি, সে মা-র দায়িত্ব নেবে কীভাবে?”
যারা একসময় বাংলাদেশ চায়নি —
আজ তারা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনের কথা বলে!
যারা স্বাধীনতাবিরোধী ছিল,
তারা কি সত্যিই গণতন্ত্রের রক্ষক হতে পারে?
“জন্মের শত্রু হয়ে, আদরের দাবি চলে না!”
জামাতের অতীত ইতিহাস খুঁটিয়ে দেখলেই বোঝা যায় —
এরা গণতন্ত্র চায় না, চায় দখলদারি।
যদি পিআর আসে — কী হবে?
✅ এলাকার মানুষদের ভোটের মূল্য কমে যাবে।
✅ দলের তালিকায় প্রাধান্য পাবে অন্ধ আনুগত্য।
✅ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হবেন দলের মুখপাত্র, জনগণের নয়।
✅ সংসদে পৌঁছাবে রাজনৈতিক বাণিজ্য-প্রসূত এমপি।
✅ স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রম হবে অদৃশ্য এজেন্ডার হাতিয়ার।
এটা কি আমরা চাই? নাকি এটাই হবে গণতন্ত্রের পরিণতি?
“জলের গতি যেমন নিচে, তেমনি রাজনীতির গতি এখন নিচে!”
যদি এখনই আমরা সচেতন না হই —
তাহলে গণতন্ত্রের নামে এমন এক ব্যবস্থা আসবে,
যা শুধু দেশ নয়, পুরো জাতিকে বিপদে ফেলবে।
জামাতের মতো দল পিআরের দাবি তুলে
আসলে খেলছে রাজনৈতিক বেঁচে থাকার খেলা।
এদের মুখে কথা আছে, কাজে ফাঁদ আছে।
“দুধে জল মেশালে যেমন দুধ থাকে না,
তেমনি গণতন্ত্রে ষড়যন্ত্র ঢুকলে, সেটা গণতন্ত্র থাকে না।”
এটা ছিলো আজকের Politika Bangla-র বিশ্লেষণ।