রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনায় সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে ডিবি পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতে নিষেধ করায় সাম্যকে পরিকল্পিতভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক আখতার মোর্শেদ জানান, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করে আসছিল। নিহত সাম্য ও তার বন্ধুরা এ কার্যকলাপের বিরোধিতা করায় তাদের মধ্যে শত্রুতার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন রাতে মাদক বিক্রির সময় সাম্য তাদের বাধা দিলে, ‘কবুতর রাব্বি’ ও তার সহযোগীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সাম্যকে নির্মমভাবে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত সাতজন হলেন— মেহেদী হাসান, রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, হৃদয় ইসলাম, হারুন অর রশিদ সোহাগ ও রবিন। তদন্তে জানা যায়, এরা সবাই পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী, যারা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রি করতো।
অন্যদিকে, তদন্তে প্রমাণ না পাওয়ায় তামিম হাওলাদার, সম্রাট মল্লিক, পলাশ সরদার ও সুজন সরকারকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৩ মে রাত ১১টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাম্য ছুরিকাহত হন এবং মধ্যরাতে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। এই হত্যাকাণ্ডে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।