পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে তার রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। শনিবার দলটির সিনেটর খুররম জিশান জানান, ইমরান খান সম্পূর্ণ জীবিত আছেন এবং তিনি বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইমরান খানকে দেশে থাকতে বাধ্য করতে সরকার কৌশল হিসেবে তাকে নির্জন কক্ষে রেখেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইমরান খানের জনপ্রিয়তাই সরকারের প্রধান উদ্বেগ। এ কারণে তার কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, গত এক মাস ধরে ইমরান খানকে পরিবারের সদস্য, আইনজীবী কিংবা দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি—যা তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন।
সপ্তাহের শুরুতে আফগানিস্তানের কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেইজে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ইমরান খানকে কারাগারের ভেতরে হত্যা করা হয়েছে। আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তার তিন বোনকে গত এক মাসে দেখা করতে না দেওয়ায় দেশের রাজনীতিতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। এর মধ্যেই শুরু হয় হত্যার গুজব, যা পিটিআই সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।
খুররম জিশান জানান, ইমরান খান কোথায় আছেন এবং কী অবস্থায় আছেন—তার ব্যাপারে গত কয়েক দিনে দলের কাছে নিশ্চিত তথ্য এসেছে যে, তিনি জীবিত এবং সুস্থ আছেন। তবে তাকে চাপে ফেলতে সরকার সমঝোতার চেষ্টা করছে। দাবি করা হচ্ছে, ইমরান খান দেশ ছেড়ে বিদেশে নীরবে থাকলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। তবে তিনি কখনোই এই প্রস্তাবে রাজি হবেন না বলে দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, কারাগারে থাকলেও ইমরান খানের প্রভাব কমেনি; বরং তরুণদের মধ্যে পিটিআইয়ের শক্ত ভিত্তি তাকে আরও দৃঢ় করছে। তার একটি ছবি প্রকাশ পেলেই নতুন গণজাগরণ তৈরি হতে পারে—এ কারণেই সরকার তা আটকে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।