ইরানে হামলা চালাতে সৌদি আরবের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে মঙ্গলবার সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে ক্রাউন প্রিন্স ইরানের প্রেসিডেন্টকে আশ্বস্ত করেন যে সৌদি আরবের ভূমি কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সৌদি আরবের সম্মান বজায় রাখার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে আগের চেয়েও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান যদি সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে চায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা যাবে না।
ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছিল। সে সময় ইরান ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ চলছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ওই হামলার চেয়েও বড় অভিযান চালানোর প্রস্তুতি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
নিজের পোস্টে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, একটি বিশাল যুদ্ধজাহাজের বহর ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং যেকোনো সময় অভিযানে যেতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, ভেনেজুয়েলায় পাঠানো বহরের চেয়েও এটি বড় এবং প্রয়োজনে আরও দ্রুত ও ভয়াবহ হামলা চালাতে সক্ষম।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, তিনি চান ইরান দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসুক এবং একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছাক। তার ভাষায়, কোনো পরমাণু অস্ত্রের অনুমতি দেওয়া হবে না। সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে উল্লেখ করে ট্রাম্প সতর্ক করেন, ভবিষ্যতে আবার হামলা হলে তা আগের চেয়েও মারাত্মক হবে।