যুদ্ধ বন্ধে ইসরায়েলে বিক্ষোভ, অবরোধ

গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের সড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ইসরায়েলের হাজারো মানুষ - বিবিসি ছবি:
গাজায় যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে তেল আবিবের সড়কে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে ইসরায়েলের হাজারো মানুষ - বিবিসি ছবি:

গাজায় হত্যাযজ্ঞ থামানোর পাশাপাশি হামাসের হাতে জিম্মি থাকাদের মুক্তির দাবিতে ইসরায়েলিদের ভেতর অসন্তোষ বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ এ দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। ‘ডে অব ডিজরাপশন’ বা ‘ব্যাঘাতের দিন’ নামে কর্মসূচি ঘোষণা করে বিক্ষোভে নামেন তারা। এ সময় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করতে দেখা যায় তাদের।

ইসরায়েলের সরকারের প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে বিক্ষোভকারীরা বলেন, ‘যুদ্ধের নামে গাজায় শুধু ধ্বংস ও প্রাণহানি ঘটছে, অথচ বন্দিদের মুক্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই।’ এ জন্য গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানান তারা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে অনেকে বন্দিদের ছবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। দুই বছর ধরে গাজায় হামাসের হাতে জিম্মি অন্তত ৫০ ইসরায়েলি নাগরিককে অবিলম্বে মুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এদের মধ্যে ২০ জন এখনও জীবিত বলে ধারণা করছে ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
 

বিক্ষোভ মঞ্চে নিজের অভিজ্ঞতার কথা শোনান হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সাবেক জিম্মি ডরন স্টেইনব্রেকার। তিনি বলেন, ‘আমি মুক্ত হয়েছি, কিন্তু আমার অনেক বন্ধু এখনও গাজায় বন্দি। তাদের আমি ভুলে যেতে পারব না।’

তবে দেশের ভেতরে জনঅসন্তোষ বাড়তে থাকলেও যুদ্ধ থামানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া নেতানিয়াহুর জন্য কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, কট্টর ডানপন্থিদের ওপর ভর করে নেতানিয়াহু সরকার টিকে আছে। আর ডানপন্থি মন্ত্রীরা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধ থামালে সরকার ভেঙে যাবে। ফলে এই জনঅসন্তোষ কার্যত চলমান গাজা যুদ্ধে প্রভাব ফেলবে না।

এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে খাদ্য সংকটে অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন ৯ জন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে অনাহারে মারা যাওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০৩-এ, যার মধ্যে ১১৭টিই শিশু। ইসরায়েলি নির্বিচার হামলায় এখন পর্যন্ত অবরুদ্ধ গাজায় নিহত হয়েছেন ৬২ হাজারের বেশি মানুষ। আহতের সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়েছে।

গাজায় ইসরায়েলের লাগামহীন হামলা ও আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষার প্রেক্ষাপটে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) এবার জাতিসংঘে দেশটির সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য চেষ্টার উদ্যোগ নিয়েছে। ইসরায়েলের সদস্যপদ স্থগিত করার জন্য ওআইসির সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, গাজার যুদ্ধ খুব দ্রুতই শেষ হবে। তাঁর ভাষায়, ‘আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যেই পরিস্থিতির একটি ভালো, চূড়ান্ত সমাপ্তি ঘটবে।’ অন্যদিকে ইসরায়েলি শাসন ব্যবস্থাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত শাসন ব্যবস্থা’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। সূত্র : আলজাজিরা, রয়টার্স, মিডলইস্ট আই, আনাদোলু।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত