টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) পুরো টুর্নামেন্ট বয়কটের বিষয়টি ভাবছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে সোমবার পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও সপ্তাহের শেষ দিকে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে বাস্তবতা হলো—বিশ্বকাপ বয়কট করলে তার ভয়াবহ প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেটের ওপর।
মহসিন নাকভি একাধিকবার জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর নির্ভর করছে। এমনকি ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করা হলেও এখনো সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন মেলেনি। আগামী সাত দিনের মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি বড় কারণে পাকিস্তানের পক্ষে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো প্রায় অসম্ভব। প্রথমত, আইসিসির বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ চুক্তি ভঙ্গের ঝুঁকি রয়েছে। শেষ মুহূর্তে বয়কট করলে আইসিসি পাকিস্তানের বার্ষিক রাজস্ব অংশ স্থগিত করতে পারে, যার পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ মার্কিন ডলার। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পিসিবির জন্য এটি বড় ধাক্কা হবে।
দ্বিতীয়ত, বয়কটকে যদি সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে ধরা হয়, তাহলে আইসিসি কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা, এশিয়া কাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়া কিংবা ভবিষ্যতে বড় আসরের আয়োজক হওয়ার সুযোগ হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে।
তৃতীয়ত, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) বড় সংকটে পড়তে পারে। বিদেশি তারকা ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ ছাড়া পিএসএলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন। বিশ্বকাপ বয়কটের কারণে আইসিসির নির্দেশে বিভিন্ন দেশ তাদের খেলোয়াড়দের পিএসএলে খেলার অনাপত্তিপত্র না দিলে লিগটি বড় ক্ষতির মুখে পড়বে।
সবশেষে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পাকিস্তান একঘরে হয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজই পিসিবির আয়ের বড় উৎস। বিশ্বকাপ বয়কটের ফলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে ভবিষ্যতে বড় দলের পাকিস্তান সফর বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির ক্রিকেট অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট পুরোপুরি বয়কট করা পাকিস্তানের জন্য লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি ডেকে আনবে।