আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে নিষিদ্ধ করায় ভোট বর্জনের হুমকি শেখ হাসিনার

 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সতর্ক করে বলেছেন, তাঁর দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া হলে দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে ভোট বর্জন দেখা দিতে পারে।

রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে নির্বাসিত অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা বলেন, “এটি শুধু অন্যায় নয়, আত্মঘাতীও। লাখো মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তারা যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে নির্বাচন অর্থহীন হয়ে পড়বে।”

আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি) ২০২৫ সালের মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করে, যার ফলে দলটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধী মতের উত্থান দেখা দিয়েছে।

ইসির পক্ষ থেকে বলা হয়, দলটির বিরুদ্ধে “গণবিরোধী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা লঙ্ঘনের” অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগ অভিযোগটি “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে দাবি করেছে।

 

হাসিনার ভোটাধিকার স্থগিত

শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ও পরিবারের কয়েকজন সদস্যের ভোটার আইডি ব্লক করা হয়েছে, যার ফলে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে  জানায়, নির্বাচন কমিশনের ডাটাবেসে তাঁদের পরিচয় “অকার্যকর” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনের পর হাসিনার সরকার পতন ঘটে।

এরপর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে এবং ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে জাতীয় নির্বাচনের পরিকল্পনা করছে।

এই প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নতুন করে রাজনৈতিক বিভাজন ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

 

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

আন্তর্জাতিক মহল থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, “প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচন গণতান্ত্রিক হতে পারে না।”

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা “বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছে, তবে হস্তক্ষেপ করবে না।”

আগামী দিনের সম্ভাবনা

শেখ হাসিনা বলেছেন,

 

“আমি এমন কোনো সরকারের অধীনে দেশে ফিরব না, যার নির্বাচন অন্যায়ভাবে পরিচালিত হয়েছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ভোটার উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা—সবই ঝুঁকির মুখে পড়বে।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত