"আমার মনে হয় যারা বর্তমানে আমলা রয়েছেন তারা বাস্তবতা ধারণ করতে পারছেন না। সময়কে পড়তে পারছেন না"—এই বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। রোববার (২৬ অক্টোবর) পিএসসির সঙ্গে বিসিএস পরীক্ষার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের অভিযোগ করেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ফাইল আটকে রেখে "গুণ্ডামি" করছে এবং শুধু নিজেদের ভাগবাটোয়ারা, পোস্টিং আর প্রমোশন নিয়েই ব্যস্ত। তিনি মন্ত্রণালয় ও পিএসসির মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর আমলারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে, কিন্তু চাকরিপ্রার্থীরা তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। এই অচলাবস্থা নিরসনে এনসিপির পক্ষ থেকে বিসিএস পরীক্ষা প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে পিএসসির কাছে ১৫ দফা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।
এনসিপির প্রতিনিধি দলে হাসনাত আবদুল্লাহ ছাড়াও ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন ও যুগ্ম সদস্য সচিব মোহাম্মদ মিরাজ মিয়া। পিএসসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে তাদের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব হলো:
১. ২০২৩-এর নন-ক্যাডার বিধি সংশোধন (যা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে রয়েছে) দ্রুত বাস্তবায়ন করতে পিএসসি থেকে চিঠি ইস্যু করা এবং ৪৩তম বিসিএস থেকেই তা সমন্বয় করা। ২. ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রার্থীদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক অধিযাচিত পদগুলোতে দ্রুত সুপারিশ সম্পন্ন করা। ৩. ৪৪তম বিসিএসে ৮৭০টি পোস্ট বৃদ্ধিসহ চলতি সপ্তাহেই পুনর্ফলাফল দেওয়া এবং এ বছরেই গেজেট প্রকাশ করা। ৪. ২০২৩-এর নন-ক্যাডার বিধি সংশোধন প্রক্রিয়া দ্রুত করে চলমান সব বিসিএস (৪৩তম থেকে ৪৭তম) থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক নন-ক্যাডার পদে সুপারিশ অব্যাহত রাখা। ৫. ৪৩তম বিসিএসের যেসব নন-ক্যাডার প্রার্থী পূর্বে ১২ গ্রেডের হেড টিচার হিসেবে সুপারিশ পেয়েছিলেন, তাদের মেধার ভিত্তিতে নতুন সার্কুলারে যুক্ত করা। ৬. ৪৫তম বিসিএস ভাইভার হাজিরাপত্রে ভাইভা মার্কস ১০০ নম্বর উল্লেখ করা। ৭. স্বচ্ছতার জন্য প্রিলি, লিখিত ও ভাইভার নম্বর প্রকাশ করা। ৮. চূড়ান্ত নম্বরপত্র ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন ও রোল নম্বর দিয়ে দেখার সুযোগ দেওয়া। ৯. পুলিশ ভেরিফিকেশন জটিলতা কমিয়ে এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা। ১০. প্রতিটি বিসিএস এক ক্যালেন্ডার বছরের মধ্যে শেষ করা। ১১. শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বিশেষ বিসিএসগুলোতে প্যানেল সিস্টেম রাখা। ১২. ভাইভা বোর্ডে নম্বরের তারতম্য কমাতে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরি (ভাষা দক্ষতা, পঠিত বিষয়, সমসাময়িক ইস্যু ইত্যাদি) প্রবর্তন করা। ১৩. প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার মধ্যে যৌক্তিক সময় রাখা এবং লিখিত পরীক্ষার রুটিন অন্তত ৫০ দিন আগে প্রকাশ করা। ১৪. চূড়ান্ত ফলাফলের আগে ক্রস-চেক করা, যাতে কেউ সম-ক্যাডার বা নিম্নতর ক্যাডারে সুপারিশ না পায়। ১৫. পিএসসির অধীনে পরীক্ষাগুলো গ্রেডভিত্তিক (সমন্বিতভাবে) নেওয়া।