কক্সবাজারে আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আবারও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন— ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন হবে। তিনি বলেন, “কথা দিলে আমি কথা রাখি।”
এর মধ্য দিয়েই তিনি প্রমাণ করলেন, নির্বাচনের ঘোষণা ছিল শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রের পথে একটি অটল অঙ্গীকার।
বিশ্বে সম্মানিত, দেশে আশার প্রতীক
ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুধু বাংলাদেশেরই নয়, বরং সারা বিশ্বের শান্তির প্রতীক।
• শান্তিতে নোবেল জয়
• যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট মেডেল অব ফ্রিডম
• ফিফার শান্তি পুরস্কার
• আরও দুই শতাধিক আন্তর্জাতিক সম্মাননা
এগুলোই প্রমাণ করে— তিনি শুধু অর্থনীতিবিদ নন, বরং একজন আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক।
বাংলাদেশে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন নিজ আগ্রহে নয়, বরং জনগণের দাবিতে। এজন্যই আজও মানুষ বিশ্বাস করে— যতদিন ড. ইউনূস আছেন, বাংলাদেশ পথ হারাবে না।
এক বছরে চ্যালেঞ্জ ও কূটনৈতিক জয়
গত এক বছরে দেশ নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
• আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র
• অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা
• যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য শুল্ক আরোপ
কিন্তু ড. ইউনূসের কূটনৈতিক প্রজ্ঞা বাংলাদেশকে বাঁচিয়েছে বড় সংকট থেকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাঁর পাঠানো সরাসরি চিঠির ফলেই বাংলাদেশের শুল্ক কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় এসেছে। এটিকে বিশাল ডিপ্লোম্যাটিক ভিক্টরি হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন নিয়েই এখন মূল ফোকাস
ড. ইউনূস স্পষ্ট বলেছেন— ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্বাচন হবে। তিনি ক্ষমতায় থাকার জন্য আসেননি, বরং গণতন্ত্রের ভিত শক্ত করার জন্য এসেছেন। নির্বাচনের পর তিনি মানবসেবায় ফিরে যেতে চান।
তবে কিছু রাজনৈতিক দল এখনও অযৌক্তিক দাবি তুলে নির্বাচন অনিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। কেউ প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) দাবি করছে, কেউ আবার নির্বাচনের সময় পেছানোর পাঁয়তারা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—
• সব দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে
• নির্বাচনের রোডম্যাপ মেনে চলতে হবে
• ভিন্নমত থাকলেও তা সমাধান হতে হবে সংসদে, গণতান্ত্রিক বিতর্কের মধ্য দিয়ে
কারণ নির্বাচন পণ্ড হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের জনগণ, নষ্ট হবে আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি।
বাংলাদেশ এখন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আস্থা রাখা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। তিনি যে বলেন, সেই কথা রাখেন— এটাই তাঁর বৈশিষ্ট্য। ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে যেমন তিনি লাখো পরিবারকে স্বাবলম্বী করেছেন, তেমনি নির্বাচন দিয়েও বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের নতুন পথে নিতে চান।
তাই ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে— এটিই দেশের জন্য আশার আলো।
সব রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব, এই নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি নতুন গণতান্ত্রিক অধ্যায়ে নিয়ে যাওয়া।