নির্বাচন, বিচার ও দেশে ফেরা নিয়ে রয়টার্সকে যা বললেন শেখ হাসিনা

নিউজ ডেস্ক
 ছবি:
ছবি:

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যদি আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়া হয়, তাহলে দলের লাখ লাখ সমর্থক সেই নির্বাচন বয়কট করবে।

নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ইমেইল সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায্যই নয়, বরং আত্মঘাতী।”

শেখ হাসিনা আরও জানান, তার দলকে বাদ দিয়ে কোনো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের আমলে তিনি দেশে ফিরবেন না। তিনি বলেন, “আমি ভারতে থাকব যতক্ষণ না দেশে একটি বৈধ সরকার গঠিত হয়।”

পনের বছর একনাগাড়ে ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এটাই ছিল শেখ হাসিনার প্রথম গণমাধ্যম সাক্ষাৎকার।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনার সব ধরনের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং আগের সব কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেয়।

রয়টার্সকে দেওয়া ইমেইলে শেখ হাসিনা বলেন,

“পরবর্তী সরকারের অবশ্যই নির্বাচনী বৈধতা থাকতে হবে। আওয়ামী লীগের লাখ লাখ সমর্থক যদি ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে সেই নির্বাচন অর্থহীন হবে। একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইলে মানুষকে ভোট দিতে দিতে হবে।”

এদিকে নির্বাচন কমিশন গত মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে।

শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা আমাদের ভোটারদের অন্য দলকে ভোট দিতে বলছি না। আমরা এখনো আশা করি, বিবেকের জাগরণ ঘটবে, এবং আমরা নিজেরাই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাব।”

তবে তিনি বা তার প্রতিনিধিরা এ নিয়ে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছেন কি না, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

ইউনূস সরকারের মুখপাত্ররা শেখ হাসিনার মন্তব্যে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।

শেষে শেখ হাসিনা বলেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ দেশের ভবিষ্যতে ভূমিকা রাখবে—

“সরকারে থাকুক বা বিরোধী দলে, আওয়ামী লীগই দেশের উন্নতির অংশ হবে। নেতৃত্ব আমার পরিবারের হাতেই থাকতে হবে—এমন নয়।”

 

এলাকার খবর

সম্পর্কিত