দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতি পালন করায় আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে। একইভাবে মাধ্যমিক স্তরের চলমান বার্ষিক পরীক্ষা এবং এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষাও অনিশ্চয়তায় পড়ে গেছে। প্রাথমিকের ৩ দফা ও মাধ্যমিকের ৪ দফা দাবিকে ঘিরে দুই স্তরের শিক্ষকরা একসঙ্গে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় শিক্ষাপঞ্জি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা, যারা বছরের শেষ মুহূর্তে এসে পরীক্ষা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক বিপর্যয়ে পড়েছে।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ—বেতন-গ্রেড, পদোন্নতি, টাইমস্কেল ও কর্মপরিবেশসহ নানা দাবিতে দীর্ঘদিন কোনো প্রতিকার না পেয়ে তারা বাধ্য হয়ে কর্মসূচিতে নেমেছেন। অন্যদিকে অভিভাবকরা বলছেন, দাবি থাকতেই পারে, তবে পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যায়ন বন্ধ করে দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।
৩ দফায় প্রাথমিক শিক্ষক এবং ৪ দফায় মাধ্যমিক শিক্ষকরা এখন কার্যত একই সময়ে আন্দোলনে একাট্টা। এরই মধ্যে ৩ লাখের বেশি প্রাথমিক শিক্ষক কর্মবিরতিতে থাকায় সারা দেশে পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে গেছে। একইভাবে চার দফা দাবিতে মাধ্যমিক শিক্ষকরা ঘোষণা দিয়েছেন—১ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষা বর্জন এবং খাতা মূল্যায়নেও অংশ নেবেন না।
সরকারী দপ্তরগুলো এ অবস্থায় পাল্টা নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে—নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা আয়োজন অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় গাফিলতি পাওয়া গেলে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, শিক্ষকদের আন্দোলন সরকারি চাকরি আইনবিরোধী এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তারা বলছে, তিন দফা দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে মাউশি মাধ্যমিক স্তরের বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই সম্পন্নের নির্দেশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে। প্রশাসন দাবি করেছে—যেকোনো শৈথিল্য বা অনিয়ম শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এই অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি উৎকণ্ঠায় অভিভাবকরা। তাদের আশঙ্কা, বছরের পরিশ্রম ও প্রস্তুতি শিক্ষার্থীদের নষ্ট হতে পারে। তারা শিক্ষক-সরকার আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান চাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও শিক্ষার্থীর স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
দুই পক্ষের অচলাবস্থায় শিক্ষাপঞ্জি ক্রমেই ছিন্নভিন্ন হচ্ছে—এবং শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।