মূল বিষয়: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে লাগা ভয়াবহ আগুন ২১ ঘণ্টা পরেও পুরোপুরি নেভেনি। ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এই ঘটনায় হাজার কোটি টাকার সম্পদ পুড়ে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন ভুক্তভোগীরা, যার বড় প্রভাব পড়বে দেশের পোশাক শিল্পে।
বিস্তারিত: শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ২টায় বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্স ভবনে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৩৭টি ইউনিটের পাশাপাশি নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেন। কিন্তু ভবনের ভেতরে বিপুল পরিমাণ কাপড় ও দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ নেয় এবং নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ সময় লাগে।
রবিবারের চিত্র: আজ (রোববার) সকালেও ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট এখনও আগুন পুরোপুরি নেভানোর জন্য কাজ করছে এবং ধ্বংসস্তূপে পানি ছিটাচ্ছে। এদিকে, সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাদের পোড়া পণ্যের খোঁজ নিতে কার্গো ভিলেজের সামনে ভিড় করছেন। পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘিরে রেখেছেন।
ব্যাপক ভোগান্তি ও ক্ষয়ক্ষতি: এই আগুনের কারণে গতকাল প্রায় ছয় ঘণ্টা বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান ওঠানামা বন্ধ ছিল। এসময় ২৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কলকাতাসহ বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়, এতে শত শত যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার ফাইটার ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই আগুনে দেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য আমদানি করা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কবে নাগাদ কার্গো ভিলেজের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে, তা এখনও অনিশ্চিত।