রায়ে নারী-পুরুষ সমান, অপরাধের গুরুতরতা অনুযায়ী শাস্তি: গাজী এমএইচ তামিম

 ছবি:
ছবি:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেছেন, রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে নারীকে কোনো আলাদা সুবিধা নেই। আসামি নারী হোক বা পুরুষ, অপরাধের গুরুতরতা অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ করা হবে। প্রমাণিত না হলে আসামি খালাস পাবেন।

তিনি আরও জানান, জুলাই গণহত্যার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীসহ তিনজনের রায় সোমবার (১৭ নভেম্বর) ঘোষণা হবে। অনুমতি সাপেক্ষে রায়ের অংশ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রার্থনা করেছে এবং শহীদ ও আহতদের পরিবারে সম্পত্তি হস্তান্তর নিশ্চিত করবে।

 

চলমান অন্য কোনো মামলায় প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে যে কয়েকটি অভিযোগ আমরা এনেছি, একই অভিযোগে অন্য কোনো মামলা থাকলে আর চলবে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী এক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে দুইবার বিচার বা শাস্তি দেওয়া যায় না। তবে এসবের বাইরে কোনো অভিযোগ থাকলে চলতে পারবে। ট্রাইব্যুনাল যে পাঁচটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করছে, সেই অভিযোগে অন্য কোথাও নতুন মামলা করাও যাবে না। যদি পূর্বে কোনো মামলা থাকে, সেটিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ছাত্রজনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই রাতে তিনি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের আদেশ দেন। ১৮ জুলাই ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। ফোনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি ও ড্রোনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অবস্থান নির্ণয়ের নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী ১৪০০ ছাত্র-জনতা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন হাজারও আন্দোলনকারী। তৃতীয় অভিযোগ ছিল রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা। চতুর্থ চানখারপুলে ছজনকে হত্যা ও পঞ্চম অভিযোগ ছিল আশুলিয়ায় ছজনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া। এই পাঁচটি অভিযোগে আমরা ফরমাল চার্জ দাখিল করেছিলাম।

রায়ের পর আসামিদের আপিল প্রসঙ্গে তামিম বলেন, আইনে পরিষ্কার করে বলা আছে যে যদি আসামি পলাতক হয় তাহলে রায়ের পর থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। যদি তিনি গ্রেপ্তার হন অথবা ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। অন্যথায় স্টেট ডিফেন্সের কোনো এখতিয়ার নেই। যেসব আসামি এ মামলায় পলাতক রয়েছেন তারাও গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ ছাড়া আপিল করতে পারবেন না।

এলাকার খবর

সম্পর্কিত